রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রে ভোটগণনার একেবারে শেষ মুহূর্তে এমন নাটকীয় পালাবদল ঘটবে, তা বোধহয় কেউ কল্পনাও করেননি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ। মাত্র ৩০৯ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের দাপুটে প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি ছিনিয়ে নিলেন জয়। এই ফলাফল শুধু একটি আসন বদলের গল্প নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় বার্তাও বহন করছে।
সোমবার ভোটগণনার সময় এই কেন্দ্রের লড়াই ছিল সত্যিকারের ‘কাঁটে কা টক্কর’। সতেরো রাউন্ড শেষে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো, তখন ৩২৩ ভোটে এগিয়ে ছিলেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, জয় কার্যত নিশ্চিত তাঁরই। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী পীযূষ সেই ফলাফল মেনে নিতে নারাজ হন। তিনি কয়েকটি বুথে কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্গণনার আবেদন করেন। নির্বাচন কমিশন বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে নির্দিষ্ট বুথে পুনরায় ভোটগণনার নির্দেশ দেয়। আর সেখানেই ঘটে আসল টুইস্ট, পুনর্গণনার পর ফলাফল ঘুরে যায় সম্পূর্ণভাবে, এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হিসেবে ঘোষিত হন পীযূষ।
এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এমনিতেই এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১১ সালের পরিবর্তনের স্মৃতি যেন আবার ফিরে এসেছে অন্য রূপে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রথম সারির নেতা ও মন্ত্রীর পরাজয় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও হারের মুখ দেখেছেন, সঙ্গে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসু, পুলক রায়, মানস ভুঁইয়া-সহ একাধিক ভারী নাম। শশী পাঁজা, সুজিত বসু, স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং ইন্দ্রনীল সেনের মতো নেতারাও পরাজিত হয়েছেন। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ ও কৃষি বিপণনমন্ত্রী বেচারাম মান্নার হার শাসকদলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের পরাজয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মন্ত্রী না হলেও রাজারহাট-নিউটাউন অঞ্চলে তাঁর সংগঠন ও প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল, ফিরহাদ হাকিম বা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো কিছু নেতা যেমন নিজেদের আসন ধরে রাখতে পেরেছেন, তাপসও কি সেই তালিকায় নাম লেখাতে পারবেন? কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা ভঙ্গ হয়। নিজের শক্ত ঘাঁটিতেই পরাজিত হয়ে তাঁকে বিদায় নিতে হলো, যা তৃণমূল শিবিরে আরও হতাশা বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘রং বদলে অত্যাচার’ তৃণমূল কর্মীরাই বিজেপির নাম ভাঙিয়ে অশা*ন্তি ছড়াচ্ছে! প্রতিবাদে নিজের ফোন নম্বর প্রকাশ করে সরাসরি জনতার পাশে দাঁড়ালেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি! সাধারণ মানুষের সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই কিসের বার্তা দিলেন তিনি?
অন্যদিকে, পীযূষের এই জয় বিজেপির জন্য নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শেষ মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে নেওয়া তাদের সংগঠন ও কৌশলের সাফল্য বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অতিরিক্ত একটি আসন বিজেপির শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে বাংলার মাটিতে। ফলে একদিকে তৃণমূল শিবিরে যখন নেমে এসেছে হতাশার ছায়া, অন্যদিকে বিজেপি শিবিরে শুরু হয়েছে আগাম উৎসবের আবহ একেবারে ‘অকাল হোলি’র মতোই উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে তাদের কর্মী-সমর্থকেরা।





